Powered by Blogger.
Love Bit
  • Home
  • All Videos
  • All Poem
  • Short Biography
  • About Us
  • Contact Us

CATEGORY >



সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি। পিতা-নিবারন ভট্টাচার্য, মা-সুনীতি দেবী। ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট মাতামহের ৪৩, মহিম হালদার স্ট্রীটের বাড়ীতে তার জন্ম।। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার(বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার উনশিয়া গ্রামে)। ১৯৪৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন। এ সময় ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মম্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন। ১৯৪৪ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। সেই বছর আকাল নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতার (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো: ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি। পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তাঁর রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।

সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু। তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে। রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কবিতার বৈপ্লবিক ভাবধারাটি যাঁদের সৃষ্টিশীল রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে, সুকান্ত তাঁদের অন্যতম। তাঁর কবিতার ছন্দ, ভাষা, রচনাশৈলী এত স্বচ্ছন্দ, বলিষ্ঠ ও নিখুঁত যে, তাঁর বয়সের বিবেচনায় এরূপ রচনা বিস্ময়কর ও অসাধারণ বলে মনে হয়। পার্টি ও সংগঠনের কাজে অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

-----------------------  ছড়িয়ে দিন ইচ্ছেমত  -------------------------------
Share on:

বুকের সীমান্ত বন্ধ তুমিই করেছো
খুলে রেখেছিলাম অর্গল,
আমার যুগল চোখে ছিলো মানবিক খেলা
তুমি শুধু দেখেছো অনল।

তুমি এসেছিলে কাছে, দূরেও গিয়েছো যেচে
ফ্রিজ শটে স্থির হয়ে আছি,
তুমি দিয়েছিলে কথা, অপারগতার ব্যথা
সব কিছু বুকে নিয়ে বাঁচি।

উথাল পাথাল করে সব কিছু ছুঁয়ে যাই
কোনো কিছু ছোঁয় না আমাকে,
তোলপাড় নিজে তুলে নিদারুণ খেলাচ্ছলে
দিয়ে যাই বিজয় তোমাকে।
Share on:


তুই কি আমার দুঃখ হবি?
এই আমি এক উড়নচন্ডী আউলা বাউল
রুখো চুলে পথের ধুলো
চোখের নীচে কালো ছায়া।
সেইখানে তুই রাত বিরেতে স্পর্শ দিবি।
তুই কি আমার দুঃখ হবি?

তুই কি আমার শুষ্ক চোখে অশ্রু হবি?
মধ্যরাতে বেজে ওঠা টেলিফোনের ধ্বনি হবি?
তুই কি আমার খাঁ খাঁ দুপুর
নির্জনতা ভেঙে দিয়ে
ডাকপিয়নের নিষ্ঠ হাতে
ক্রমাগত নড়তে থাকা দরজাময় কড়া হবি?
একটি নীলাভ এনভেলাপে পুরে রাখা
কেমন যেন বিষাদ হবি।

তুই কি আমার শুন্য বুকে
দীর্ঘশ্বাসের বকুল হবি?
নরম হাতের ছোঁয়া হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
নিজের ঠোট কামড়ে ধরা রোদন হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
প্রতীক্ষার এই দীর্ঘ হলুদ বিকেল বেলায়
কথা দিয়েও না রাখা এক কথা হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।

তুই কি একা আমার হবি?
তুই কি আমার একান্ত এক দুঃখ হবি?
Share on:


প্রাচ্যের গানের মতো শোকাহত, কম্পিত, চঞ্চল
বেগবতী তটিনীর মতো স্নিগ্ধ, মনোরম
আমাদের নারীদের কথা বলি, শোনো।
এ-সব রহস্যময়ী রমণীরা পুরুষের কণ্ঠস্বর শুনে
বৃক্ষের আড়ালে স’রে যায়-
বেড়ার ফোঁকড় দিয়ে নিজের রন্ধনে
তৃপ্ত অতিথির প্রসন্ন ভোজন দেখে
শুধু মুখ টিপে হাসে।
প্রথম পোয়াতী লজ্জায় অনন্ত হ’য়ে
কোঁচরে ভরেন অনুজের সংগৃহীত কাঁচা আম, পেয়ারা, চালিতা-
সূর্য্যকেও পর্দা করে এ-সব রমণী।

অথচ যোহরা ছিলো নির্মম শিকার
সকৃতজ্ঞ লম্পটেরা
সঙ্গীনের সুতীব্র চুম্বন গেঁথে গেছে-
আমি তার সুরকার- তার রক্তে স্বরলিপি লিখি।
মরিয়ম, যীশুর জননী নয় অবুঝ কিশোরী
গরীবের চৌমুহনী বেথেলহেম নয়
মগরেবের নামাজের শেষে মায়ে-ঝিয়ে
খোদার কালামে শান্তি খুঁজেছিলো,
অস্ফুট গোলাপ-কলি লহুতে রঞ্জিত হ’লে
কার কী বা আসে যায়।
বিপন্ন বিস্ময়ে কোরানের বাঁকা-বাঁকা পবিত্র হরফ
বোবা হ’য়ে চেয়ে দ্যাখে লম্পটের ক্ষুধা,
মায়ের স্নেহার্ত দেহ ঢেকে রাখে পশুদের পাপ।
পোষা বেড়ালের বাচ্চা চেয়ে-চেয়ে নিবিড় আদর
সারারাত কেঁদেছিলো তাহাদের লাশের ওপর।
এদেশে যে ঈশ্বর আছেন তিনি নাকি
অন্ধ আর বোবা
এই ব’লে তিন কোটি মহিলারা বেচারাকে গালাগালি করে।
জনাব ফ্রয়েড,
এমন কি খোয়াবেও প্রেমিকারা আসে না সহজ পায়ে চপল চরণে।
জনাব ফ্রয়েড, মহিলারা
কামুকের, প্রেমিকের, শৃঙ্গারের সংজ্ঞা ভুলে গ্যাছে।
রকেটের প্রেমে পড়ে ঝ’রে গ্যাছে
ভিক্টোরিয়া পার্কের গীর্জার ঘড়ি,
মুসল্লীর সেজদায় আনত মাথা
নিরপেক্ষ বুলেটের অন্তিম আজানে স্থবির হয়েছে।
বুদ্ধের ক্ষমার মূর্তি ভাঁড়ের মতন
ভ্যাবাচেকা খেয়ে প’ড়ে আছে, তাঁর
মাথার ওপরে
এক ডজন শকুন মৈত্রী মৈত্রী ক’রে
হয়তো বা উঠেছিলো কেঁদে।
Share on:


মাত্র পা রেখেছ কলেজে সেই বার, শব্দ দিয়ে গাঁথো পূর্ব সীমান্তে সাহসী ‘সীমান্ত’।
দ্বিজাতিতত্ত্বের লোমশ কালো থাবা শ্যামল সুন্দর সোনার বাংলাকে করেছে তছনছ, গ্রাম ও জনপদে ভীতির সংসার, কেবল হাহাকার।
 টেবিলে মোমবাতি কোমল কাঁপা আলো বাহিরে বৃষ্টির সুরেলা রিমঝিম_ স্মৃতির জানালায় তোমার মৃদু টোকা।

রূপার সংসারে অতিথি সজ্জন শিল্পী কতজন হিসেব রাখিনি তো! স্মরণে ওস্তাদ_ গানের মমতাজ। দারুণ উচ্ছ্বাস, সামনে চা’র কাপ প্রধান অতিথি তো আপনি, বলবেন_ কিন্তু তার আগে এ ঘোর বরষায় সমানে বলছেন নিজের সব কথা।

ওয়াজিউল্লাহ ইনস্টিটিউটে ভাষণ, প্রতিবাদ_ যাত্রা, থিয়েটার রমেশ শীল আর আবুল ফজলের, কলিম শরাফীর সাহসী আচরণ কী হলো? কী হয়েছে? আজ তো আপনার মুখে যে খৈ ফোটে! স্বপ্ন-স্মৃতি দোলে।
Share on:

আবার ফিরে এলাম,
আর একটু খোঁজ নিয়ে এলেই ভাল হত।
বাড়ির সামনের দিকে
একটা কয়লার দোকান ছিল
কাঠ, কয়লা, কেরোসিন – খুচরো কেনা বেচা,
কেউ চিনতে পারল না
দু’জন রাস্তার লোক বলল,
‘এদিকে কোনো কয়লার দোকান নেই
গলির এপারে রাধানাথ দত্তের গ্যাসের দোকান
সেখানে খোঁজখবর নিয়ে দেখুন।

‘মনে আছে কয়লার দোকানের পিছনে ছিল বড় উঠোন,
কয়েকটা আম কাঁঠাল গাছ, ভাঙা বারান্দা, ঘর দোর।
এখন তো কিছুই নেই,
শুধু একটা নেমপ্লেট, ‘নাগরিক’।
চারতলা বাড়ি, ষোলটা ফ্ল্যাট,
এরই মধ্যে কোনওটায় আমি ফিরে এসেছি।
কিন্তু কয়তলায়, কাদের ফ্ল্যাট?
স্বর্গীয় রূপকবাবুর পদবিটা যেন কী ছিল,
তাঁদের নতুন বাসাবাড়িতে এখন কে থাকে –
কোনও খোঁজখবর রাখি না,
শুধু মনে আছে তাঁর ভাইঝি টুলটুলি।

না। সেই বাড়িটা জগৎসংসারে আর নেই,
টুলটুলিকে কেউ চেনে না।
পুরনো শহরতলির নতুন পাড়ায় বোকার মতো ঘুরি।
Share on:

মনে আছে একবার বৃষ্টি নেমেছিল ?
একবার ডাউন ট্রেনের মতো বৃষ্টি এসে থেমেছিল
আমাদের ইস্টিশনে সারাদিন জল ডাকাতের মতো
উৎপাত শুরু করে দিয়েছিল তারা;
ছোট-খাটো রাজনীতিকের মতো পাড়ায়-পাড়ায়
জুড়ে দিয়েছিল অথই শ্লোগান।

তবু কেউ আমাদের কাদা ভেঙে যাইনি মিটিং-এ
থিয়েটার পণ্ড হলো, এ বৃষ্টিতে সভা আর
তাসের আড্ডার লোক ফিরে এলো ঘরে;
ব্যবসার হলো ক্ষতি দারুণ দুর্দশা,
সারাদিন অমুক নিপাত যাক, অমুক জিন্দাবাদ
অমুকের ধ্বংস চাই বলে আর হাবিজাবি হলোনা পাড়াটা।

ভদ্রশান্ত কেবল কয়েকটি গাছ বেফাঁস নারীর মতো
চুল ঝাড়ানো আঙ্গিনায় হঠাৎ বাতাসে আর
পাশের বাড়ীতে কোনো হারমোনিয়ামে শুধু উঠতি এক আগ্রহী গায়িকা
স্বরচিত মেঘমালা গাইলো তিনবার !
আর ক’টি চা’খোর মানুষ এলো
রেনকোট গায়ে চেপে চায়ের দোকানে;
তাদের স্বভাবসিদ্ধ গলা থেকে শোনা গেল :
কী করি বলুন দেখি, দাঁত পড়ে যাচ্ছে তবু মাইনেটা বাড়ছেনা,
ডাক্তারের কাছে যাই তবু শুধু বাড়ছেই ক্রমাগত বাড়ছেই
হৃদরোগ, চোখের অসুখ !

একজন বেরসিক রোগী গলা কাশলো :
ওহে ছোকরা, নুন চায়ে এক টুকরো বেশী লেবু দিও।
তাদের বিভিন্ন সব জীবনের খুঁটিনাটি দুঃখবোধ সমস্যায় তবু
সেদিন বৃষ্টিতে কিছু আসে যায়নি আমাদের
কেননা সেদিন সারাদিন বৃষ্টি পড়েছিল,
সারাদিন আকাশের অন্ধকার বর্ষণের সানুনয় অনুরোধে
আমাদের পাশাপাশি শুয়ে থাকতে হয়েছিল সারাদিন
আমাদের হৃদয়ে অক্ষরভরা উপন্যাস পড়তে হয়েছিল !
Share on:
মাঝে মাঝে আমি বিস্মিত হই,
মাঝে মাঝে আমার সন্দেহ হয়,
আমি মানুষ তো?

যখন আকাশ দেখি,
বিষন্ন ধ্রুবতারার যন্ত্রণাময় চোখে
নিসঃঙ্গতা প্রবল, বুঝতে পারি।

রমনী ঠোটে সমুদ্র ঢেউ খেলে,
ছড়িয়ে দেয় যৌনতার উত্তাপ
বুঝতে পারি, নারী তুমি কি চাও।

বেশ্যা চোখে চোখ রেখে হেসে উঠে,
বুঝতে পারি, ভালোবাসা নয় ক্ষূধার অবসান,
বিনিময়ে শরীর সঙ্গ।

মেঘবতীর নীল আঁচল খসে পড়ে,
বুঝতে পারি, ভালোবাসা চাই ভালোবাসা।

মধ্যরাতে স্পর্শ করলেই
বুঝতে পারি, রমনীর উচ্ছসিত শরীর
জাগ্রত হয় পুরুষ।

তবুও সন্দেহ হয়
আমি মানুষ তো?

বেঁচে উঠার ইচ্ছেগুলো নিসঃঙ্গ অন্ধকারে ভাসমান,
স্বপ্নগুলো জীবন্ত লাশ হয়ে ফেরে,
অন্ধকার লজ্জা পায় আমার নগ্নতায়,
যন্ত্রনায় কুঁকড়ে যাই,
প্রবল সন্দেহ জাগে
আমি………………
আমি মানুষ তো!
Share on:
দেয়ালে টাঙ্গানো যে ঘুড়িটি,
তা আর উড়বে না আকাশে।
দেখতে দেখতে সাদা রঙ্গা সে
ঘুড়িটি হয়ে যাবে ফ্যাকাশে।
আস্তে আস্তে জমবে ধূলো তাতে,
এক সময় বার্ধক্যের মত চিড়
ধরে তা হয়ে যাবে ধ্বংস-নিবিড়;
এইযে দেখছেন এই ঘুড়িটি,
তা আর উড়বে না আকাশে।
কারণ, এ ঘুড়িটি যে উড়াতো
সে-ই উড়ে গেছে আকাশে।
Share on:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ই মে, ১৮৬১ – ৭ই আগস্ট, ১৯৪১) (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) বাংলার দিকপাল কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক। তিনি গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় নন্দিত। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে রবীন্দ্রনাথ এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেন। তিনি গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন । নোবেল ফাউন্ডেশন তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটিকে বর্ণনা করেছিল একটি “গভীরভাবে সংবেদনশীল, উজ্জ্বল ও সুন্দর কাব্যগ্রন্থ” রূপে।

রবীন্দ্রনাথের জন্ম কলকাতার এক পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে। মাত্র আট বছর বয়সে প্রথম কবিতা রচনা করেন তিনি। ১৮৮৭ সালে মাত্র ষোলো বছর বয়সে “ভানুসিংহ” ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। সেই বছরই রচনা করেন প্রথম ছোটোগল্প ও প্রথম নাটক। তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের সমর্থন করতেন। রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক মতাদর্শ বিমূর্ত রয়েছে বহুবর্ণী সৃষ্টিকর্ম ও প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশ্বভারতীর মধ্যে।

রবীন্দ্রনাথ ধ্রুপদি শৈলীর দুরূহতাকে চূর্ণ করে বাংলার শিল্পকলাকে আধুনিক করে তোলেন। তাঁর উপন্যাস, ছোটোগল্প, গান, নৃত্যনাট্য ও প্রবন্ধের উপজীব্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিষয়বস্তু। গীতাঞ্জলি, গোরা, ঘরে বাইরে, শেষের কবিতা, গল্পগুচ্ছ, গীতবিতান, ডাকঘর, রক্তকরবী ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

তাঁর কবিতা, গল্প ও উপন্যাস গীতিধর্মিতা, সহজবোধ্যতা, ধ্যানগম্ভীর প্রকৃতিবাদ ও উচ্চমার্গের দার্শনিক চিন্তাধারার জন্য প্রসিদ্ধ। রবীন্দ্রনাথ দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত রচয়িতার বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংগীত “জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ” ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা” তাঁর রচনা। (বাংলা উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত)

 ------------------------- ছড়িয়ে দিন ইচ্ছেমত  ---------------------------------
Share on:

নির্মলেন্দু গুণের জন্ম জুন ২১, ১৯৪৫ (আষাঢ় ৭, ১৩৫২ বঙ্গাব্দ) কাশবন, বারহাট্টা, নেত্রকোণায়। বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার গুরুত্বপূর্ণ কবিদের একজন। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিদেরও একজন তিনি। স্বাধীনতার পূর্বে তিনি সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। সাংবাদিকতায়ও জড়িত ছিলেন।

তিনি প্রধানত একজন আধুনিক কবি। শ্রেণীসংগ্রাম, স্বৈরাচার-বিরোধিতা, প্রেম ও নারী তার কবিতার মূল-বিষয় হিসেবে বার বার এসেছে। কবিতার পাশাপাশি কবিতা এবং ভ্রমণগল্পও লিখেছেন। নিজের লেখা কবিতা এবং গদ্য সম্পর্কে তার নিজের বক্তব্য হলো –

“অনেক সময় কবিতা লেখার চেয়ে আমি গদ্যরচনায় বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করি। বিশেষ করে আমার আত্মজৈবনিক রচনা বা ভ্রমণকথা লেখার সময় আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে আমি যে গদ্যটি রচনা করতে চলেছি, তা আমার কাব্য-রচনার চেয়ে কোনো অর্থেই ঊনকর্ম নয়। কাব্যকে যদি আমি আমার কন্যা বলে ভাবি, তবে গদ্যকে পুত্রবৎ। ওরা দুজন তো আমারই সন্তান। কাব্যলক্ষ্মী কন্যা যদি, গদ্যপ্রবর পুত্রবৎ।”

তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ হল –

  • প্রেমাংশুর রক্ত চাই (১৯৭০)
  • না প্রেমিক না বিপ্লবী (১৯৭২)
  • কবিতা, অমিমাংসিত রমণী (১৯৭৩)
  • দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী (১৯৭৪)
  • চৈত্রের ভালোবাসা (১৯৭৫)
  • ও বন্ধু আমার (১৯৭৫)
  • আনন্দ কুসুম (১৯৭৬)
  • বাংলার মাটি বাংলার জল (১৯৭৮)
  • তার আগে চাই সমাজতন্ত্র (১৯৭৯)
  • চাষাভুষার কাব্য (১৯৮১)
  • অচল পদাবলী (১৯৮২)
  • পৃথিবীজোড়া গান (১৯৮২)
  • দূর হ দুঃশাসন (১৯৮৩)
  • নির্বাচিতা (১৯৮৩)
  • শান্তির ডিক্রি (১৯৮৪)
  • ইসক্রা (১৯৮৪)
  • প্রথম দিনের সূর্য (১৯৮৪)
  • আবার একটা ফুঁ দিয়ে দাও (১৯৮৪)
  • নেই কেন সেই পাখি (১৯৮৫)
  • নিরঞ্জনের পৃথিবী (১৯৮৬)
  • চিরকালের বাঁশি (১৯৮৬)
  • দুঃখ করো না, বাঁচো (১৯৮৭)
  • ১৯৮৭ (১৯৮৮)
  • যখন আমি বুকের পাঁজর খুলে দাঁড়াই (১৯৮৯)
  • ধাবমান হরিণের দ্যুতি (১৯৯২)
  • কাব্যসমগ্র, ১ম খণ্ড (১৯৯২, সংকলন)
  • কাব্যসমগ্র, ২য় খণ্ড (১৯৯৩, সংকলন)
  • অনন্ত বরফবীথি (১৯৯৩)
  • আনন্দউদ্যান (১৯৯৫ )
  • পঞ্চাশ সহস্র বর্ষ (১৯৯৫ )
  • প্রিয় নারী হারানো কবিতা (১৯৯৬)
  • শিয়রে বাংলাদেশ
  • ইয়াহিয়াকাল (১৯৯৮ )
  • আমি সময়কে জন্মাতে দেখেছি (২০০০)
  • বাৎস্যায়ন (২০
তাঁর একমাত্র গল্পগ্রন্থ “আপন দলের মানুষ”। তাঁর বেশকিছু আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রয়েছে।

তিনি ১৯৮২ সালে “বাংলা একাডেমী পদক” এবং ২০০১ সালে “একুশে পদক” এ ভুষিত হন।

(তথ্যসূত্র : বাংলা উইকিপিডিয়া)

--------------------------  ছড়িয়ে দিন ইচ্ছেমত  ---------------------------
Share on:

পালের নাও, পালের নাও, পান খেয়ে যাও –
ঘরে আছে ছোট বোনটি তারে নিয়ে যাও।
কপিল-সারি গাইয়ের দুধ যেয়ো পান করে’
কৌটা ভরি সিঁদুর দেব কপালটি ভরে’!
গুয়ার গায়ে ফুল চন্দন দেব ঘসে’ ঘসে’,
মামা-বাড়ীর বলব কথা শুনো বসে বসে!

কে যাওরে পাল ভরে’ কোন্ দেশে ঘর
পাছা নায়ে বসে আছে কোন্ সওদাগর?
কোন্ দেশে কোন্ গাঁয়ে হিরে ফুল ঝরে।
কোন্ দেশে হিরামন পাখী বাস করে!
কোন্ দেশে রাজ-কনে খালি ঘুম যায়,
ঘুম যায় আর হাসে হিম্-সিম্ বায়।
সেই দেশে যাব আমি কিছু নাহি চাই,
ছোট মোর বোনটিরে যদি সাথে পাই!

পালের নাও, পালের নাও, পান খেয়ে যাও,
তোমার যে পাল নাচে ফুলঝুরি বাও।
তোমার যে না’র ছই আবের ঢাকনী
ঝলমল জ্বলিতেছে সোনার বাঁধনী।
সোনার না বাঁধন্ রে তার গোড়ে গোড়ে
হিরামন পঙ্খীর লাল পাখা ওড়ে।
তারপর ওড়েরে ঝালরের ছাতি,
ঝলমল জলে জ্বলে রতনের বাতি।
এই নাও বেয়ে যায় কোন্ সদাগর,
কয়ে যাও – কয়ে যাও কোন্ দেশে ঘর?

পালের নাও, পালের নাও, পান খেয়ে যাও,
ঘরে আছে ছোট বোন্ তারে নিয়ে যাও, –
চেনা গাঙে সাত ধার করে গলাগলি,
সেথা বাস কেহেলার – লোকে গেছে বলি।
পারাপার দুই নদী – মাঝে বালুচর
সেইখানে বাস করে চাঁদ সওদাগর।

এ পারে ধুতুমের বাসা ও পারেতে টিয়া –
সেখানেতে যেও না রে নাও খানি নিয়া।
ভাইটাল গাঙ্ দোলে ভাটা গেঁয়ো সোতে,
হবে নারে নাও বাওয়া সেথা কোন মতে।
Share on:

ময়ুখ চৌধুরী বাংলাদেশের সাহিত্যে এক অনিবার্য ও দুর্দমনীয় নাম। তাঁর পরিচিতি একাধিক কারণে পরিব্যাপ্ত। সাহিত্যের নানা ক্ষেত্রে তাঁর কৃতিত্ব ও প্রয়াস তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শিল্পসচেতন কবি হিসেবে, বিরল প্রসাদগুণসম্পন্ন প্রাবন্ধিক ও পরিশ্রমী গবেষক হিসেবে তাঁর অধিষ্ঠান তর্কাতীত। বোধে, অনুভবে ও পারঙ্গমতায় তিনি মনে প্রাণে সৎ, সাহসী ও শুদ্ধ।
তাঁর কবিতার সৌন্দর্য এতোটাই স্পর্শকাতর ও অপূর্ব যে, পাঠক কবিতাটি পাঠ করা মাত্রই পৌঁছে যান এক স্বপ্নিল ও রহস্যময় জগতে, যেখানে এক ঐতিহ্যমণ্ডিত শিল্পের প্রতিচ্ছবি কবি দৃশ্যময় করে তোলেন। ভাষার বলিষ্ঠতা ও সুরের গতিময়তা তাঁর দুর্বোধ্য ও জটিল ভাবনাকেও সুখপাঠ্য করে দেয়। কি শব্দ প্রয়োগে, কি বক্তব্যে, কি বিন্যাসে, কি আঙ্গিকে, কি উপমায়, কি ছন্দে তিনি এক মেধাবী কবি।

নানা বিষয়ে কবিতা নির্মাণের দক্ষ কারিগর ময়ুখ চৌধুরী। সমকালীন জীবন যন্ত্রণার বিশ্বস্ত রূপকার তিনি, তিনি ঐতিহ্যমুখী। তবু বিশেষভাবে বলা যায়, রোমান্টিক প্রেমের কবিতায় তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর কবিতার অন্যতম প্রধান বিষয় প্রেম ও নারী। শব্দের সিঁড়ি বেয়ে ছন্দের দোলায় দুলে তাঁর কবিতা পৌঁছে যায় পাঠকের অন্তরে। তাঁর কবিতা যেমন চিত্ররূপময়, তেমনি যথেষ্ট শরীরী।
তাঁর ভাষা সুরেলা, কিন্‌তু বক্তব্য ঋজু। তিনি অকপটে সাজাতে পারেন মনের সব কথা, অবলীলায় বলতে পারেন ছন্দের কারুকার্যে। প্রেমের জয়গান গেয়ে এগিয়ে গেলেও ময়ুখ চৌধুরী সচেতন তাঁর মননশীলতার বিষয়ে। প্রেমের আর্তি আকুলতার চিত্র আঁকতে গিয়ে তিনি কেবল সুন্দরের অনুসন্ধান করেছেন।

ময়ুখ চৌধুরী জন্মেছেন ১৯৫০ সালের ২২ অক্টোবর চট্টগ্রামে। বেড়ে উঠেছেন কর্ণফুলীর পাড়ে। জলের কল্লোলে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ এম এ ডিগ্রি নেন ১৯৭৩ সালে।

১৯৭৮–৮৩ সালে পিএইচ. ডি করেছেন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ‘শামসুর রাহমান: এক আধুনিক কবি’ গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং রবীন্দ্রকাব্য বিষয়ে গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ড. অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম লেখা প্রকাশ: ১৯৬৫ সাল। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: কালো বরফের প্রতিবেশী (কাব্যগ্রন্থ), অর্ধেক রয়েছি জলে অর্ধেক জালে (কাব্য), তোমার জানলায় আমি জেগে আছি চন্দ্রমল্লিকা (কাব্য), ঊনিশ শতকের নবচেতনা ও বাংলা কাব্যের গতিপ্রকৃতি (গবেষণাগ্রন্থ) প্রভৃতি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ময়ুখ চৌধুরী সংসার করছেন আরেক অধ্যাপক কবি তাসলিমা শিরিনের সঙ্গে।

=================  ছড়িয়ে দিন ইচ্ছেমত  ===============
Share on:


তসলিমা নাসরিন (জন্ম :২৫ আগস্ট, ১৯৬২) বাংলাদেশের বহুআলোচিত ও বিতর্কিত নারীবাদী সাহিত্যিক। তসলিমা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে ১৯৮৬ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। এর পর তিনি সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসক হিসাবে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত কাজ করেন।.[১] পরবর্তীকালে তসলিমা সাহিত্যকেই নিজের পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বিপ্লবাত্মক নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ও ইসলামের সমালোচনার জন্য বিশ্বব্যাপী তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এই এর ফলে ১৯৯৪ সালে তাঁকে দেশত্যাগ করতে হয়। এরপর তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন।[২] বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে তিনি প্রতিবেশী বাংলাভাষী পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় ইসলামি ধর্মগুরুদের আপত্তি ও মৌলবাদীদের প্রাণনাশের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে তাঁকে কলকাতা পরিত্যাগ করতে হয়। বর্তমানে তিনি সুইডেনে বসবাস করছেন। তাঁর রচনা সমূহের মধ্যে লজ্জা, আমার মেয়েবেলা, দ্বিখণ্ডিত, গোল্লাছুট, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

১৯৮২ সালে, তিনি কবি রুদ্র মোহাম্মদ শহিদ্দোল্লার প্রেমে পড়েন এবং ঘর থেকে পালিয়ে বিয়ে করেন। ১৯৮৬ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে সাংবাদিক ও সম্পাদক নাইমুল হক খানের সাথে বিয়ে এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়।তিনি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তা-র সম্পাদক মাইনুর মোহাম্মদকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

কবিতাঃ

  • শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা (১৯৮৬)
  • নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে (১৯৮৯)
  • আমার কিছু যায় আসে না (১৯৯০)
  • অতলে অন্তরীণ (১৯৯১)
  • বালিকার গোল্লাছুট (১৯৯২)
  • বেহুলা একা ভাসিয়েছিল ভেলা (১৯৯৩)
  • আয় কষ্ট ঝেঁপে, জীবন দেবো মেপে (১৯৯৪)
  • নির্বাসিত নারীর কবিতা (১৯৯৬)
  • জলপদ্য (২০০০)
  • খালি খালি লাগে (২০০৪)
  • কিছুখন থাকো (২০০৫)
  • ভালোবাসো? ছাই বাসো! (২০০৭)
  • বন্দিনী (২০০৮)


প্রবন্ধ সংকলনঃ

  • নির্বাচিত কলাম (১৯৯০)
  • যাবো না কেন? যাব (১৯৯১)
  • নষ্ট মেয়েয় নষ্ট গল্প (১৯৯২)
  • ছোট ছোট দুঃখ কথা (১৯৯৪)
  • নারীর কোন দেশ নেই (২০০৭)


উপন্যাসঃ

  • অপরপক্ষ (১৯৯২)
  • শোধ (১৯৯২)
  • নিমন্ত্রন (১৯৯৩)
  • ফেরা  (১৯৯৩)
  • লজ্জা (১৯৯৩)
  • ভ্রমর কই গিয়া (১৯৯৪)
  • ফরাসি প্রেমিক (২০০২)
  • শরম (২০০৯)


ছোট গল্পঃ

  • দুঃখবতি মেয়ে (১৯৯৪)
  • মিনু (২০০৭)
  • আত্মজীবনী
  • আমার মেয়েবেলা (১৯৯৯)
  • উতাল হাওয়া (২০০২)
  • ক (২০০৩)
  • সেই সব অন্ধকার (২০০৪)
  • আমি ভালো নেই, তুমি ভালো থেকো প্রিয় দেশ (২০০৬)

--------------------------  ছড়িয়ে দিন ইচ্ছেমত  -----------------------------
Share on:

জয় গোস্বামী (নভেম্বর ১০, ১৯৫৪) একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি এবং সাহিত্যিক । জয় গোস্বামীর জন্ম কলকাতা শহরে। ছোটবেলায় তাঁর পরিবার রানাঘাটে চলে আসে। তখন থেকেই তাঁর স্থায়ী নিবাস সেখানে। তাঁর পিতা রাজনীতি করতেন, তাঁর হাতেই জয় গোস্বামীর কবিতা লেখার হাতে খড়ি। ছয় বছর বয়সে তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। তাঁর মা শিক্ষকতা করে তাঁকে লালন পালন করেন। মা ছিলেন রাণাঘাট  লালগোপাল স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা | কবি প্রথাগত শিক্ষার ফাঁস ছিড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন স্কুলের ১১ ক্লাস পড়তে  পড়তেই | তাঁর প্রথম কবিতা সিলিং ফ্যান | তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় তিনটি লিটিল ম্যাগাজিনে – “সীমান্তে সাহিত্য”, “পদক্ষেপ” এবং “হোম শিখা” | ১৯৭৬ সালে তাঁর কবিতা দেশ পত্রিকায় প্রথম বার ছাপা হয় |  পরে তিনি ঐ পত্রিকাতেই একজন সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন |

তিনি , ১৯৮৯ সালে কাব্যগ্রন্থ “ঘুমিয়েছ ঝাউপাতা”র জন্য আনন্দ পুরস্কারে ভূষিত হন, ১৯৯৭ সালে ভূষিত হন  বাংলা একাদেমি পুরস্কারে “বজ্র বিদ্যুৎ ভর্তি খাতা”র জন্য  এবং সাহিত্য একাদেমি পুরস্কার পান “পাগলী তোমার সঙ্গে”র জন্য | জয় গোস্বামী এ যুগের অন্যতম জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী কবি | তাঁর কবিতা সম্বন্ধে  আমাদের নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই মনে করি | তাঁর লেখা উপন্যাসের মধ্যে “মনোরমার উপন্যাস”,”সেই সব শেয়ালেরা”, “সুড়ঙ্গ ও প্রতিরক্ষা” ইত্যাদি |

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস এবং অত্যাচারিতের পাশে দাঁড়ানো জয় গোস্বামীর অন্যতম গুণ| গুজরাতের দাঙ্গার পর কবিতায় ধিক্কার আমরা দেখেছি | সম্প্রতি  (২০০৬ – ২০০৭) সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রামের জমি বাঁচাও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং  মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি তাঁর কবিতায় ধিক্কার জানিয়েছেন | এই কবিতা নিয়ে, “বিজল্প” প্রকাশিত তাঁর ১৫টি কবিতার বই “শাসকের প্রতি” ।

এর আগেও কবি নানা সময় নানা বিষয়ে তাঁর প্রতিবাদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রকাশ করেছেন | একবার তাঁর কন্যার ইস্কুলের কতৃপক্ষকে বাংলায় চিঠি লেখায়, তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে | তারা জানায় যে তারা নাকি  শুধু ইংরেজীতেই লেখা চিঠি গ্রহণ করে থাকে এবং বাংলায় চিঠি গ্রহণ করতে তারা বাধ্য নয় | এর প্রতিবাদে  কবি তাঁর কন্যাকে কলকাতার কসবা অঞ্চলের সেই নামী স্কুল থেকে তুলে এনে অন্যত্র ভর্তি করিয়েছিলেন | সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলনে কবির প্রকাশ্য বিরোধী ভূমিকার ফলস্বরূপ তাঁকে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজে ইস্তফা দিয়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছে |

কবিতা
  • ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ (১৯৭৬)
  • প্রত্নজীব (১৯৭৮)
  • আলেয়া হ্রদ (১৯৮১)
  • উন্মাদের পাঠক্রম (১৯৮৬)
  • ভূতুমভগবান (১৯৮৮)
  • ঘুমিয়েছো, ঝাউপাতা? (১৯৮৯)
  • আজ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করো
  • বজ্র বিদ্যুং ভর্তি খাতা (১৯৯৫)
  • ওহ স্বপ্ন (১৯৯৬)
  • পাগলী, তোমার সঙ্গে (১৯৯৪)
  • পাতার পোষাক (১৯৯৭)
  • বিষাদ (১৯৯৮)
  • যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল (১৯৯৮)
  • মা নিষাদ (১৯৯৯)
  • সূর্য পোড়া ছাই (১৯৯৯)
  • জগৎবাড়ি (২০০০)
  • কবিতাসংগ্রহ (১৯৯৭-২০০১)
  • প্রেতপুরুষ ও অনুপম কথা (২০০৪)
  • শাসকের প্রতি (২০০৭)
উপন্যাস ও অন্যান্য
  • হৃদয়ে প্রেমের শীর্ষ (১৯৯৪)
  • মনোরমের উপন্যাস (১৯৯৪)
  • সেইসব শেয়ালেরা (১৯৯৪)
  • সুড়ঙ্গ ও প্রতিরক্ষা (১৯৯৫)
  • রৌদ্রছায়ার সংকলন (১৯৯৮)
  • সংশোধন বা কাটাকুটি (২০০১)
  • সাঁঝবাতীর রূপকথারা (২০০১)
  • দাদাভাইদের পাড়া
  • ব্রহ্মরাক্ষস
  • সব অন্ধকার ফুলগাছ
-------------------------  ছড়িয়ে দিন ইচ্ছেমত  --------------------------
Share on:
  • ← Previous post
  • Next Post →
Facebook Twitter Gplus RSS

All Category List

  • All Videos (20)
  • Percy Bysshe Shelley (1)
  • Short Biography (15)
  • অমিয় চক্রবর্তী (5)
  • আনিসুল হক (1)
  • আপনি যখন কবি (2)
  • আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (2)
  • আবুল হাসান (12)
  • আব্দুল হাকিম (1)
  • আল মাহমুদ (5)
  • আসাদ চৌধুরী (3)
  • আহসান হাবীব (5)
  • উৎপলকুমার বসু (1)
  • কাজী নজরুল ইসলাম (16)
  • কামিনী রায় (1)
  • কায়কোবাদ (3)
  • চিত্তরঞ্জন দাশ (6)
  • জয় গোস্বামী (9)
  • জসীম উদ্দিন (18)
  • জহির রায়হান (1)
  • জীবনানন্দ দাশ (18)
  • তসলিমা নাসরিন (6)
  • তারাপদ রায় (2)
  • দাউদ হায়দার (4)
  • নির্মলেন্দু গুণ (45)
  • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (1)
  • পুর্ণেন্দু পত্রী (15)
  • প্রেমেন্দ্র মিত্র (1)
  • ফকির লালন সাঁই (1)
  • ফররুখ আহমেদ (1)
  • বিষ্ণু দে (2)
  • বুদ্ধদেব বসু (2)
  • বেগম সুফিয়া কামাল (2)
  • ময়ুখ চৌধুরী (2)
  • মল্লিকা সেনগুপ্ত (2)
  • মহাদেব সাহা (11)
  • মাইকেল মধুসূদন দত্ত (1)
  • মাহবুব উল আলম চৌধুরী (1)
  • মোফাজ্জল করিম (1)
  • যতীন্দ্র মোহন বাগচী (1)
  • রজনীকান্ত সেন (1)
  • রফিক আজাদ (4)
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (26)
  • রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ (10)
  • রেজাউদ্দিন স্টালিন (1)
  • রোকনুজ্জামান খান (1)
  • শক্তি চট্টোপাধ্যায় (10)
  • শঙ্খ ঘোষ (7)
  • শহীদ কাদরী (2)
  • শামসুর রাহমান (11)
  • শিমুল মুস্তাফা (1)
  • সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (5)
  • সমর সেন (2)
  • সমুদ্র গুপ্ত (5)
  • সুকান্ত ভট্টাচার্য (8)
  • সুকুমার বড়ুয়া (1)
  • সুকুমার রায় (5)
  • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (21)
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় (3)
  • সৈয়দ শামসুল হক (3)
  • হুমায়ুন আজাদ (14)
  • হেলাল হাফিজ (23)

Blog Archive

  • ▼  2019 (1)
    • ▼  March (1)
      • তোমার কুমারীত্ব পরীক্ষা করার জন্য আমি বসে নেই
  • ►  2018 (396)
    • ►  July (37)
    • ►  June (253)
    • ►  May (24)
    • ►  April (29)
    • ►  March (13)
    • ►  February (22)
    • ►  January (18)
  • ►  2017 (17)
    • ►  December (14)
    • ►  November (2)
    • ►  October (1)

Translate Your Own Laguage

FB Page

Total Pageviews

Popular Posts

  • Obohela (অবহেলা) Part#1 - Bangla New Sad Love Story 😭😥😥 Love Bit
    Obohela (অবহেলা) Part#1 - Bangla New Sad Love Story 😭😥😥 Love Bit
  • Those days of school life - স্কুল লাইফের সেই দিন গুলো || Love Bit
    Those days of school life - স্কুল লাইফের সেই দিন গুলো || Love Bit
  • মেঘ বলতে আপত্তি কি ? – জয় গোস্বামী
    মেঘ বলতে আপত্তি কি ? – জয় গোস্বামী

Tags

All Videos (20) Percy Bysshe Shelley (1) Short Biography (15) অমিয় চক্রবর্তী (5) আনিসুল হক (1) আপনি যখন কবি (2) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (2) আবুল হাসান (12) আব্দুল হাকিম (1) আল মাহমুদ (5) আসাদ চৌধুরী (3) আহসান হাবীব (5) উৎপলকুমার বসু (1) কাজী নজরুল ইসলাম (16) কামিনী রায় (1) কায়কোবাদ (3) চিত্তরঞ্জন দাশ (6) জয় গোস্বামী (9) জসীম উদ্দিন (18) জহির রায়হান (1) জীবনানন্দ দাশ (18) তসলিমা নাসরিন (6) তারাপদ রায় (2) দাউদ হায়দার (4) নির্মলেন্দু গুণ (45) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (1) পুর্ণেন্দু পত্রী (15) প্রেমেন্দ্র মিত্র (1) ফকির লালন সাঁই (1) ফররুখ আহমেদ (1) বিষ্ণু দে (2) বুদ্ধদেব বসু (2) বেগম সুফিয়া কামাল (2) ময়ুখ চৌধুরী (2) মল্লিকা সেনগুপ্ত (2) মহাদেব সাহা (11) মাইকেল মধুসূদন দত্ত (1) মাহবুব উল আলম চৌধুরী (1) মোফাজ্জল করিম (1) যতীন্দ্র মোহন বাগচী (1) রজনীকান্ত সেন (1) রফিক আজাদ (4) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (26) রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ (10) রেজাউদ্দিন স্টালিন (1) রোকনুজ্জামান খান (1) শক্তি চট্টোপাধ্যায় (10) শঙ্খ ঘোষ (7) শহীদ কাদরী (2) শামসুর রাহমান (11) শিমুল মুস্তাফা (1) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (5) সমর সেন (2) সমুদ্র গুপ্ত (5) সুকান্ত ভট্টাচার্য (8) সুকুমার বড়ুয়া (1) সুকুমার রায় (5) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (21) সুভাষ মুখোপাধ্যায় (3) সৈয়দ শামসুল হক (3) হুমায়ুন আজাদ (14) হেলাল হাফিজ (23)
latest comments
Hercules Design @Hercules_group
@billykulpa Please contact us via info@hercules-design.com
Reply Retweet Favorite

06 May 2014

Hercules Design @Hercules_group
@billykulpa Please contact us via info@hercules-design.com
Reply Retweet Favorite

06 May 2014

Hercules Design @Hercules_group
@billykulpa Please contact us via info@hercules-design.com
Reply Retweet Favorite

06 May 2014

This blog is to provide you with daily outfit ideas and share my personal style. This is a super clean and elegant WordPress theme for every bloggers. Theme is perfect for sharing all sorts of media online. Photos, videos, quotes, links... etc.

Facebook Twitter Gplus Youtube

Love Bit

LoveBit is a Love Relationship Blog

  • Home
Copyright © LoveZoneBD. All Right Reserved.Developed By ArlenDevs
Created By SoraTemplates | Distributed By MyBloggerThemes